বাহরাইনে যুব এশিয়ান গেমসের তৃতীয় আসরে ভারতের হয়ে অনূর্ধ্ব ১৮ অ্যাথলেটিকসের হাঁটা প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক লাভ করলেন মালদহের এক সবজি বিক্রেতার ছেলে পলাশ মন্ডল।। এটি তার আন্তর্জাতিক স্তরে জীবনের প্রথম জয়। জেলা স্তরে এবং রাজ্যস্তরে সাফল্য লাভ করার পর জাতীয় স্তরে যোগ্যতা মান পেরিয়ে ব্যাঙ্গালোরে প্রস্তুতি শিবিরে ডাক পেয়েছিল। সেই শিবির থেকে একমাত্র প্রতিযোগী হিসাবে অনূর্ধ্ব ১৮ হাঁটা প্রতিযোগিতায় সুযোগ পেয়েছিল যুব এশিয়ান গেমসে। গত ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছিল যুব এশিয়ান গেমস প্রতিযোগিতা। চলবে ৩১ শে অক্টোবর পর্যন্ত। শুক্রবার ছিল হাঁটা ৫০০০ মিটার হাটা প্রতিযোগিতা। আর সেখানেই বাজিমাত করলো পলাশ। বাকি প্রতিযোগীদের পিছনে ফেলে ভারতের হয়ে তৃতীয় স্থান দখল করল।সে সময় নিয়েছে ২৪ মিনিট ৪৮.৯২ সেকেন্ড।
মালদা শহরের বিভূতিভূষণ হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র পলাশ । বাবা গয়া মণ্ডল পেশায় সবজি বিক্রেতা। মা ডলি মন্ডল গৃহবধূ। এছাড়াও তার পরিবারে রয়েছে তার দুই দিদি। ইংরেজবাজারের কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বাহান্নবিঘায় বাড়ি পলাশের। অভাবের সংসার। কিন্তু এর মধ্যেও জেদ ও অধ্যাবসায়ের জেরে তার এই সাফল্য বলে জানিয়েছেন তার কোচ অমিতাভ রায়। তিনি জানান দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনি পলাশকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এই হাটা প্রতিযোগিতায় জন্য।
আন্তর্জাতিক স্তরে ছাত্রের এই সাফল্যে খুশি কোচ অমিতাভ রায় তিনি জানান, তিনি একজন প্রাক্তন সেনা কর্মী। খেলোয়ার জীবনে তার শিক্ষাগুরু পুলক ঝা। তারই অনুপ্রেরণায় খেলোয়াড় তৈরির তাগিদে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে খেলোয়াড় তৈরির লক্ষ্যে দরিদ্র পরিবারের বেশ কিছু ছেলেমেয়েদেরকে তিনি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বিভিন্ন খেলায়। তবে তার আক্ষেপ জেলায় প্রশিক্ষণ নেবার জন্য মাঠের অভাব। এয়ারপোর্টের ভেতরে জঙ্গল পরিষ্কার করে একটি জায়গাকে মাঠ বানিয়েছেন। সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তিনি এই ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রী প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য এখানে আসছেন । পাশাপাশি তার আক্ষেপ আমরা প্র্যাকটিস করি মাটিতে কিন্তু আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতা গুলো হয় সিনথেটিক কোর্টে। কলকাতার সাই ক্যাম্পে রয়েছে সিনথেটিক কোর্ট। কলকাতায় গিয়ে সিন্থেটিক কোর্টে প্র্যাকটিস করা সম্ভব নয় মালদার ছেলেমেয়েদের। মালদায় এখনো পর্যন্ত ৪০০ মিটারের ট্রাক তৈরি হলো না বলে তার আক্ষেপ।
পলাশের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন তার মধ্যে আরও এগিয়ে যাবার অদম্য ইচ্ছা ও প্রতিভা রয়েছে কিন্তু অর্থই মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় নামার জন্য যে জুতার প্রয়োজন তার দাম ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। অবশ্য এই প্রতিযোগিতায় যাবার আগে স্কুলের শিক্ষকরা এবং কোচ মিলে জুতো কিনে দিয়েছেন। তবে এখন আরো উন্নত মানের জুতো বেরিয়ে গেছে। সেই জুতো পেলে সে হয়তো আরো ভালো ফলাফল করতে পারত।

